খুলনা নগরীর হরিণটানা থানার রেলব্রিজ সংলগ্ন বুলু ওয়েল আবাসিক এলাকায় একটি বাড়ির উঠান থেকে নিখোঁজ এক ইজিবাইক চালকের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাড়ির মালিক মুরাদ মোল্লা ও তার স্ত্রী ফাল্গুনী খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে মুরাদ মোল্লার বাড়ির উঠানে মাটি খুঁড়ে কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়। পরে সেটি ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
হরিণটানা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন কঙ্কাল উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মুরাদ মোল্লা ও তার স্ত্রী ফাল্গুনী খাতুনের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। ঝগড়ার সময় তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করতেন। একপর্যায়ে ইজিবাইক চালক মারুফকে হত্যার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে।
সোমবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও ঝগড়া হলে মুরাদ স্ত্রীকে মারধর করেন। এরপর ফাল্গুনী পুলিশকে জানান, কয়েক মাস আগে ইজিবাইক চালক মারুফকে হত্যা করে বাড়ির উঠানে পুঁতে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দম্পতিকে আটক করে। পরে তাদের দেখানো স্থান খুঁড়ে বৃষ্টির মধ্যেই বিকেল ৩টার দিকে কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
হরিণটানা থানার ওসি (তদন্ত) মুরাদ হোসেন মিলন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, নিহত মারুফ আসামিদের পূর্বপরিচিত ছিলেন। গত রমজান মাসের কোনো এক রাতে তাকে ফোন করে বাড়িতে ডেকে আনা হয়। এরপর ইজিবাইকে বসা অবস্থায় পেছন থেকে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ওই রাতেই বাড়ির উঠানে লাশ পুঁতে রাখা হয়। পরে ইজিবাইকটি খুলে টুকরো টুকরো করে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
ওসি মো. হেলাল উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিহতের নাম মারুফ বলে জানা গেছে। তার বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ বছর এবং তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন।
পুলিশের ধারণা, প্রায় পাঁচ মাস আগে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে মারুফকে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়। দীর্ঘ সময় মাটির নিচে থাকায় মরদেহটি কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।
নিহতের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
https://www.kaabait.com