• শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:১৭
সর্বশেষ :
পাঠকের আস্থা হারালে সাংবাদিকতা দুর্বল হয়ে পড়ে: কে এম রেজাউল করিম শ্যামনগরে জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদ: সংঘ*র্ষে আহত ৫ সুন্দরবনকে বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ ঘোষনার লক্ষ্যে কনসালটেশন সভা দেবহাটার চণ্ডীপুরে বেহাল সড়ক, জনপ্রতিনিধিরা নীরব, নিজেদের উদ্যোগেই সংস্কারে গ্রামবাসী শ্যামনগরের পদ্মপুকুর ইউনিয়নে বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টারের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী শনিবার শ্যামনগরে দুস্থ অসহায় ও বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ নগরঘাটায় উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী ইবাদুল ইসলামের মতবিনিময় সভা সংঘবদ্ধ ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠী জাতিকে বিভ্রান্ত করছে: ড. মনিরুজ্জামান দেবহাটায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বিএনপির মিছিল ও সমাবেশ

পাঠকের আস্থা হারালে সাংবাদিকতা দুর্বল হয়ে পড়ে: কে এম রেজাউল করিম

সম্পাদকীয় / ২০ দেখেছেন:
পাবলিশ: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার ক্যামেরা নয়, পরিচয়পত্র নয়, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অনুসারীর সংখ্যাও নয়। একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো পাঠকের আস্থা।

 

একজন পাঠক যখন কোনো সাংবাদিকের সংবাদ পড়েন, তখন তিনি ধরে নেন, তথ্যটি যাচাই করা হয়েছে, সংবাদটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় এবং এখানে সত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বিশ্বাস একদিনে তৈরি হয় না। বছরের পর বছর দায়িত্বশীল ও পেশাদার সাংবাদিকতার মাধ্যমে এই আস্থা অর্জন করতে হয়। আবার একটি ভুল সংবাদ, পক্ষপাতদুষ্ট উপস্থাপন কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে মুহূর্তেই সেই বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

 

তাই সংবাদে ভুল হলে তা স্বীকার করা, প্রয়োজন হলে সংবাদ সংশোধন করা এবং সংবাদ ও ব্যক্তিগত মতামতের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রাখা সাংবাদিকতার দুর্বলতা নয়। বরং এটি একজন সাংবাদিকের পেশাগত সততা ও দায়িত্ববোধের পরিচয়।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: সাংবাদিকতার সুযোগ, আবার পরীক্ষাও

ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সাংবাদিকতার পরিসর ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। আগে কোনো স্থানীয় সংবাদ হয়তো একটি ছোট এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। এখন সেই সংবাদ মুহূর্তের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।

 

স্থানীয় সাংবাদিকতার জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় সুযোগ।

তবে এই সুযোগের পাশাপাশি রয়েছে বড় একটি চ্যালেঞ্জও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম অনেক সময় তথ্যের সত্যতার চেয়ে মানুষের আগ্রহ, প্রতিক্রিয়া ও সম্পৃক্ততাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে আবেগঘন, চটকদার কিংবা বিতর্কিত কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এই বাস্তবতায় একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়।

তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কোন খবরটি মানুষের জানার প্রয়োজন এবং কোন কনটেন্টটি শুধু মানুষের কৌতূহল বা আবেগকে উসকে দেয়। এই দুটি বিষয় এক নয়।

একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিককে তাই ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতার চেয়ে সত্য প্রকাশের দায়িত্বকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ কোথায়?

ভবিষ্যতের সাংবাদিকতা নিঃসন্দেহে আরও প্রযুক্তিনির্ভর হবে। মোবাইল সাংবাদিকতা, ডেটা সাংবাদিকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং নতুন নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সংবাদ পরিবেশনের ধরনকে আরও বদলে দেবে।

কিন্তু প্রযুক্তি যতই পরিবর্তিত হোক, সাংবাদিকতার মৌলিক প্রশ্নগুলো বদলাবে না।

 

সত্য কী?
সত্যটি মানুষের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এর প্রভাব কী?
এবং সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকের দায়িত্ব কতটুকু?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কোনো প্রযুক্তি একা দিতে পারবে না। সিদ্ধান্ত নিতে হবে মানুষের বিবেক, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ দিয়ে।

প্রযুক্তি একটি সংবাদকে দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে, কিন্তু সংবাদটির সত্যতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সাংবাদিকের। প্রযুক্তি হাজারো তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু কোন তথ্য প্রকাশ করা নৈতিকভাবে সঠিক এবং কোনটি নয়, সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত মানুষেরই।

প্রযুক্তিকে ভয় নয়, সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে

সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির হাতে নয়; বরং প্রযুক্তিকে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সেই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

তাই প্রযুক্তিকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিকে দক্ষতার সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে। তবে প্রযুক্তির সঙ্গে যেন সাংবাদিকতার বিবেক, নৈতিকতা ও মানবিকতা হারিয়ে না যায়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।

 

কারণ সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়; এটি সমাজের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

ক্ষমতার সামনে প্রশ্ন তোলা, নিপীড়িত মানুষের কথা বলা, অনিয়ম তুলে ধরা, সত্যকে সামনে আনা এবং মানুষের আস্থা ধরে রাখা, এসবই সাংবাদিকতার মূল শক্তি।

প্রযুক্তি একজন সাংবাদিকের হাতকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। কিন্তু সেই হাত কোন পথে চলবে, তা নির্ধারণ করবে সাংবাদিকের বিবেক, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ।

 

শেষ কথা

দিনশেষে সাংবাদিকতার অস্তিত্বের প্রশ্ন শুধু এই নয় যে, প্রযুক্তি থাকবে কি না। আসল প্রশ্ন হলো, প্রযুক্তির যুগেও আমরা কি সত্যকে সত্য হিসেবে তুলে ধরতে পারব?

আমরা কি মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারব?

আমরা কি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলতে পারব?

আমরা কি পাঠকের আস্থা ধরে রাখতে পারব?

যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে প্রযুক্তি সাংবাদিকতার জন্য হুমকি নয়। বরং সত্যকে আরও শক্তিশালীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।

আর যদি সত্য, নৈতিকতা ও মানবিকতার জায়গাটি হারিয়ে যায়, তাহলে প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক না কেন, সাংবাদিকতা তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তিটিই হারাবে।

প্রযুক্তি বদলাবে, মাধ্যম বদলাবে, সংবাদ পরিবেশনের ধরন বদলাবে। কিন্তু সাংবাদিকতার আত্মা যেন কখনো না বদলায়।

সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা, মানুষের প্রতি দায়িত্ব এবং সমাজের প্রতি জবাবদিহি। সেখানেই সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ। সেখানেই সাংবাদিকতার অস্তিত্ব।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com