• শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০২:২৪
সর্বশেষ :
দেবহাটায় দুই দিনব্যাপী ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গঠন ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত দেবহাটায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে গাছগাছালি কর্তন ও দখলের চেষ্টা, আদালতে মামলা বল্লী মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ডুমুরিয়ায় থানার পাশের ডাকবাংলো এখন ‘ভূতুড়ে বাড়ি’ ধুলিহর শতবর্ষী আছিয়া বেগমের পাশে সদর প্রশাসন,খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিলেন সংবাদকর্মীরা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে আটক ভারতীয় রেনু পোনা খালে অবমুক্ত সংস্কারের অভাবে মরণফাঁদে শাহাপুর-দৌলতপুর সড়ক, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ বিশ্বকাপে মেসির ১৭তম গোল, এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা তালায় খাল সংস্কার, পাইপ স্থাপন ও জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রমের উদ্বোধন বোয়ালমারী খাল পুনঃখনন কাজের মানে সন্তুষ্ট এলাকাবাসী, বৃক্ষরোপণে সুরক্ষার দাবি

শ্যামনগরে প্রতিবন্ধী মেয়েকে ভ*য়ভী*তি দেখিয়ে বক্তব্য রেকর্ড, ফেসবুকে প্রচার—থানায় অভিযোগ

এসএম মিজানুর রহমান, শ্যামনগর, প্রতিনিধি / ১৬০ দেখেছেন:
পাবলিশ: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক বক্তব্য রেকর্ড করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই তরুণীর পিতা, স্থানীয় এক মসজিদের মুয়াজ্জিনের সম্মানহানির পাশাপাশি তাকে চাকরি থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টার অভিযোগও করা হয়েছে।

 

ভুক্তভোগী সারমিন আক্তার ইরানী (২৩) শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের খাগড়াঘাট গ্রামের বাসিন্দা আবু ইছা মোল্যার কন্যা। আবু ইছা মোল্যা খাগড়াঘাট বাইতুল আমান পাঞ্জেগানা মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া তার মেয়ে ইরানী সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে একই এলাকার শওকত সরদারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান (৪০) ইরানীকে একটি ঘেরের বাসায় ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার পিতা আবু ইছা মোল্যার বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের মিথ্যা অভিযোগ স্বীকার করতে বাধ্য করা হয়। পরে সেই বক্তব্য রেকর্ড করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

 

ভুক্তভোগী ইরানী জানান, “নুরুজ্জামানের স্ত্রী আমাকে ঘেরের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে নুরুজ্জামান আমাকে ভয় দেখিয়ে বলে, আমার বাবার বিরুদ্ধে খারাপ কথা বলতে। আমি না বললে দা দেখিয়ে জবাই করার হুমকি দেয়। পরে ভয় পেয়ে তারা যা বলেছে, তাই বলতে বাধ্য হই।”

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফিরোজ আহমেদ বলেন, “ইছা হুজুর প্রায় ১০-১৫ বছর ধরে আমাদের মসজিদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একজন সৎ ও ভালো মানুষ। পরিকল্পিতভাবে তার সম্মানহানির জন্য এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। মেয়েটি প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে ব্যবহার করা হয়েছে।”

 

অভিযোগের বিষয়ে মুয়াজ্জিন আবু ইছা মোল্যা বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে মসজিদে আজান দিচ্ছি। এলাকায় আমার সম্পর্কে সবাই জানে। নুরুজ্জামানের পরিবারের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। কিছুদিন আগে তার ভাইকে মারতে এলে আমি বাধা দিই। সেই ক্ষোভ থেকেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।”

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুরুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আবু ইছা মোল্যা ভালো মানুষ না, তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।”
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. খালেদুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com