মেয়েকে ব্যবহার করে প্রেম-বিয়ে, পরে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া—১৬ লাখ টাকার অভিযোগ, শালিসেও মেলেনি সমাধান
যশোরের সাগরদাড়ি এলাকায় প্রেম ও বিয়ের নামে সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, পরিকল্পিতভাবে সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আমিনুর সরদার ও তার স্ত্রী ইয়াসমিন। স্থানীয়দের দাবি, তারা নিজেদের মেয়েদের ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এমন প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড় মেয়ে ইতি খাতুন ও মেঝো মেয়েকে ব্যবহার করে বিভিন্ন যুবকের সঙ্গে প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়। পরে আবেগ ও বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত বিয়ের আয়োজন করা হয়। তবে বিয়ের পরই পাল্টে যায় পরিস্থিতি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নানা অজুহাতে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছ থেকে নগদ অর্থ আদায় করা হয়। কখনো অসুস্থতার কথা, কখনো পারিবারিক সংকট দেখিয়ে একাধিক দফায় টাকা নেওয়ার পর ধীরে ধীরে সম্পর্কের অবনতি ঘটানো হয়।
এ ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইতি খাতুনকে ঘিরে ওঠা আরও গুরুতর অভিযোগ। জানা গেছে, তার প্রথম সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সেই সংসারের স্বামীর কাছ থেকেও নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
ভুক্তভোগী স্বামীর এক স্বজন জানান, কৌশলে সম্পর্ক তৈরি করে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায় করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত সম্পর্ক ভেঙে দেওয়া হয়।
এদিকে, সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান জামাই যশোরের নতুনহাট এলাকার মেঘলা গ্রামের প্রবাস ফেরত হায়দার আলীকে সঙ্গে নিয়ে তালাকপ্রাপ্ত জামাই সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা এলাকার আলামিনের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে আদালতে হাজিরা দিতে গেলে হত্যার হুমকির অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগী আলামিন আরও বলে, সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে স্ত্রী নিজ ইচ্ছার তার ঘর ছেড়েছেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। আবার আমাকে তালাকনামা পাঠানোর ২৯ দিন পরে যৌতুক মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব হুমকির মাধ্যমে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সাগরদাড়ি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার শালিস-মীমাংসার উদ্যোগ নিলেও কোনো সমাধান মেলেনি। বরং প্রতিবারই বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, প্রেম ও বিয়ের মতো সংবেদনশীল সম্পর্ককে ব্যবহার করে এমন প্রতারণা শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য বড় হুমকি। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবার এমন প্রতারণার শিকার না হয়।
প্রেম, বিশ্বাস ও পারিবারিক সম্পর্ক—এই তিনটি যখন প্রতারণার হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখন তার প্রভাব পড়ে গোটা সমাজে। সাগরদাড়ির এই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিই এখন সর্বস্তরের মানুষের।
https://www.kaabait.com