• মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৩
সর্বশেষ :
স্বাগতা ক্লিনিকে সিভিল সার্জনের অভিযান: ওটি-প্যাথলজি সিলগালা, ম্যানেজারকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ তালা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফেসবুকে অভিযোগ, রোগী দেখাতে এক ঘণ্টা অপেক্ষার দাবি শ্যামনগরে নকশীকাঁথার আয়োজনে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালিত দেবহাটায় মাসিক আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় সভা লোনাপানি মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার বিদায় সংবর্ধনা প্রদান শ্যামনগরে বুড়িগোয়ালিনী দাতনাখালিতে গাছ থেকে পড়ে ১ ব্যবসায়ীর মৃত্যু দেবহাটার কৃতি শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক সেমিনারে উপস্থাপনের জন্য মনোনীত পাটকেলঘাটায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু ধুলিহরে গভীর রাতে টর্নেডোয় মন্দিরসহ একাধিক বসতঘর লন্ডভন্ড আশাশুনির বড়দলে আকস্মিক টর্নেডোয় চারটি কাঁচা ঘর লন্ডভন্ড

মুঠোফোনে জুয়ার ফাঁদ: দ্রুত লাভের আশায় সর্বস্ব হারাচ্ছে তরুণরা

কেএম রেজাউল করিম, দেবহাটা সাতক্ষীরা / ১৮২ দেখেছেন:
পাবলিশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
Oplus_131072

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হলেও এর সুযোগ নিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা সামাজিক ঝুঁকি। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় বর্তমানে অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত ও সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ এসব প্ল্যাটফর্মে জড়িয়ে পড়ছেন। শুরুতে অল্প অর্থ দিয়ে খেলা শুরু হলেও ধীরে ধীরে বাড়ছে বিনিয়োগের পরিমাণ। একপর্যায়ে হারানো টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় আরও অর্থ ব্যয় করে সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেকে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মোবাইল ফোনে কয়েকটি ক্লিকের মাধ্যমেই বিভিন্ন অনলাইন জুয়া ও বেটিং প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করা যায়। ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের একটি অংশ সহজেই এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি সচেতন মহলের।

 

অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই ধীরে ধীরে আসক্ত হয়ে পড়ছেন। প্রথম দিকে অল্প অর্থ হারালেও সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় পরবর্তী সময়ে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করছেন। এতে কেউ কেউ নিজের সঞ্চয়, ধার করা টাকা কিংবা পরিবারের প্রয়োজনীয় অর্থও ব্যয় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এর প্রভাব শুধু ব্যক্তির ওপরই সীমাবদ্ধ থাকছে না। অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবারে দেখা দিচ্ছে অশান্তি ও কলহ। অনেক ক্ষেত্রে জুয়ার কারণে ঋণের বোঝা বাড়ছে, নষ্ট হচ্ছে পারিবারিক সম্পর্ক। একই সঙ্গে তরুণদের পড়াশোনা ও কর্মজীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

 

অভিভাবকদের অনেকেই সন্তানদের মোবাইল ব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের অভিযোগ, পড়াশোনা কিংবা প্রয়োজনীয় কাজের পরিবর্তে কেউ কেউ দীর্ঘ সময় অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ে ব্যস্ত থাকছেন। এতে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে।

 

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা। তরুণদের মধ্যে অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর দিক তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা ও কর্মমুখী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে।

 

তারা আরও বলেন, অবৈধ অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের সঙ্গে জড়িত প্ল্যাটফর্ম, প্রচার-প্রচারণা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রমের বিষয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ধনী হওয়ার আশায় অনলাইন জুয়ার পথে পা বাড়ানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জুয়ার মাধ্যমে লাভের চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি। একবার আসক্ত হয়ে পড়লে তা থেকে বেরিয়ে আসাও কঠিন হয়ে যেতে পারে। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি এর প্রভাব পড়তে পারে ব্যক্তির মানসিক অবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক জীবনে।

 

তাই অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং অবৈধ জুয়া ও বেটিং কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com