• মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৬:০৩
সর্বশেষ :
সরকারি কাজে চাঁ*দা*বাজির অভিযোগ জামাত নেতার বি*রুদ্ধে, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চায় পানি উন্নয়ন বোর্ড দেবহাটায় উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জে গ্রাম আদালতের অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত বনবিভাগের গু*লিতে জেলে নি*হ*ত, লা*শ নিয়ে রেঞ্জ অফিসে ব্যাপক ভা*ঙ*চুর ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করল বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে দেবহাটায় জনজীবন বি*প*র্য*স্ত তালা উপজেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত মোঃ আবদুল মজিদ সাংবাদিক পরিবারও রেহাই পায়নি চেয়ারম্যান হাকিমের হাত থেকে! মারা গেছেন কারিনা কায়সার ডুমুরিয়ায় লবণাক্ত জমিতেও সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন

সীডলেস লেবু চাষে কানাইদিয়ার শেখ আব্দুর রশিদের সফলতা

প্রতিনিধি: / ৩৮৩ দেখেছেন:
পাবলিশ: মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

শেখ আব্দুল গফুর, কপিলমুনি (খুলনা) অফিস: তালা উপজেলার কানাইদিয়া গ্রামে একজন  বৃক্ষ প্রেমিক শুধুমাত্র শখের বসে
মাত্র ২২ শতক জমিতে ৫১ টি সীডলেস লেবুর চারা রোপন করে কৃষি কাজ
শুরু করেন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা  শেখ আব্দুর রশিদ। চাকুরীর সুবাদে বদলী
হয়ে যে এলাকায় যেতেন সেখানেই বিভিন্ন ফলজ বৃক্ষ দেখে আকৃষ্ট হতেন।
চাকুরী জীবনে অবসর নেন ২০০৯ সালে। এরপর তিনি কৃষি কাজের উদ্যোগ
গ্রহণ করলে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিশেষ
অনুরোধে তিনি বেশ কিছুদিন সেই ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হিসেবে
দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু প্রবল ইচ্ছা শক্তির কারণে তাকে আর বেশিদিন
বেঁধে রাখা সম্ভব হয়নি। ফিরে আসেন কৃষি কাজে। কোন পূর্ব
অভিজ্ঞতা ছাড়াই ২০২১ সালের ২৫ জুন  থেকে লেবু চাষের মধ্যমে তিনি
মাসুমা লেমন প্রজেক্ট নাম দিয়ে কৃষিকাজ শুরু  করেন। পরিবারের চাহিদা
মেটানোর পাশাপাশি বিক্রি করে বেশ অর্থ উপার্জন করেন। তার বাগানে
প্রায় বার মাসই লেবুতে ভরপুর থাকে। কৃষি কাজের অভিজ্ঞতা আছে কিনা
জানতে চাইলে তিনি বলেন ইউটিউবের কৃষি চ্যানেলগুলো অনুসরণ করি।
প্রথম দিকে একটু অসুবিধা হতো এখন আর তেমন কোন সমস্যা হয় না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়  বাগানে শোভা পাচ্ছে কয়েক প্রজাতির
লেবু।তিনি আরো জানান কপিলমুনি এস কে লেমন গার্ডেন থেকে ৫১
পিচ লেবুর কলম সংগ্রহ করে বাড়ির পাশের জমিতে রোপন করি । বছর যেতে
না যেতেই গাছে ফুল এসে ভরে যায়। মাস খানেকের মধ্যেই গাছে লেবু ধরা
শুরু হয়।  নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বছরে তিনি ১ লক্ষ টাকার লেবু বিক্রি
করেন। গাছে লেবুর পরিমাণ ভালো হওয়ায় লেবু চাষে আগ্রহ তৈরি হয়।  পরে
তিনি বাড়ির পাশে আরো সাড়ে ১৬ শতাংশ জমিতে সিডলেস , শরবতি ও
কাগজি লেবুর  চারা রোপণ করেন।লেবু বিক্রির আয় থেকে সংসারের
বিভিন্ন কাজে খরচের পাশাপাশি টাকা জমাতে শুরু করেছেন। তিনি
বলেন,আগে এলাকায় এই লেবুর বাগান ছিল না। শখের বসে লেবুর চারা এনে
রোপণ করেছিলাম।  এখন লেবুর বাগান থেকে ভাল লাভ আসছে। আগামীতে
বানিজ্যিক হারে লেবুর বাগান করবেন বলে  তিনি জানান। লেবুর পাশাপাশি
লেবুর কলম করে বছরে আরো ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করছেন। এ ছাড়াও তার
বাগানে শোভা পাচ্ছে সুমিষ্ট মালটা,  কলাগাছ, ড্রাগন, বরুই,আম,
লিচু  সহ বেশ কয়েক প্রজাতির ফল। তার দেখাদেখি অনেকেই লেবু চাষে
আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বেকার তরুনদের লেবুর বাগান করে স্বাবলম্বী হওয়ার
পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, তার এক ছেলে ঢাকায় থাকেন এবং মেয়ে
কপিলমুনি মেহেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ।
ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি সুখী । তিনি এলাকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন
করেছেন। তার বাগানের উৎপাদিত  লেবু অনেকেই নিয়ে খাচ্ছেন। গুণে ও
স্বাদে অসাধারণ। তার দেখাদেখি অনেকেই লেবু চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। এভাবে
কৃষিতে সফলতা পেলে দেশ কৃষিতে স্বনির্ভর হয়ে উঠবে।আশা করি
আগামীতে লেবু চাষের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশে কৃষি খাতে ব্যাপক
সাফল্য বয়ে আনবে।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com