• বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৪:০৫
সর্বশেষ :
ব্রহ্মরাজপুরে ভেজাল দুধ তৈরির দায়ে ৫০হাজার টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেবহাটার ঈদগাহ বাজারে ভারসাম্যহীন মহিলার মৃ*ত্যু সাতক্ষীরায় নির্ধারিত সময়সূচি মেনে শুরু আম পাড়া, আগাম সংগ্রহে কড়াকড়ি শ্যামনগরে অ*পহ*রণের ৪৮ ঘণ্টা পর পশু চিকিৎসক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩ গোপালগঞ্জে বজ্রপাতে সাতক্ষীরার কৃষকের মৃ*ত্যু ব্রহ্মরাজপুর সাহাপাড়ায় অ_সামাজিক কার্যকলাপে অ*তিষ্ঠ এলাকাবাসী পুলিশের ১৬ ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসর দেবহাটার পল্লীতে অ*গ্নি*কা*ণ্ড: ক্ষ*তিগ্রস্ত পরিবারের পাশে জামায়াত নেতৃবৃন্দ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের অবস্থান কর্মসূচি বিল ডাকাতিয়ায় জলাবদ্ধতা: ফসলের নিচের পানি যেন কৃষকের বুক ফাটা আর্তনাদ

ডুমুরিয়া থেকে হারিয়ে যাচ্ছে জাতীয় ফুল শাপলা

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া, খুলনা প্রতিনিধি / ৩৬৯ দেখেছেন:
পাবলিশ: শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫

খুলনার ডুমুরিয়া থেকে জাতীয় ফুল শাপলা এখন বিলুপ্ত প্রায়। বর্ষা মৌসুমে এক সময় জেলার আনাচে-কানাচে পড়ে থাকা জলাভূমি, পুকুর-ডোবা, নদী-নালা ও খালবিল এক সময় শাপলায় ভরে থাকত। যা এক সময় গ্রামকে অপরূপ সৌন্দর্যে ভরে রাখত। এই উদ্ভিদ কোন প্রকার পরিচর্যা ছাড়াই গ্রাম গঞ্জের পুকুর, ডোবা, জলাশয়ে জন্মে থাকে।

 

একাধিক গুণযুক্ত এই শাপলার ডাটা একদিকে যেমন সবজি অন্যদিকে শাপলার মূল ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শাপলা ফুল ফোটার পর কিছুদিনের মধ্যে ফল জন্ম নেয়। আর ওই ফলের ভেতরে থাকে কালো কালো দানা। এটাকে লোকজন বলে ‘চাউলিয়া’।  শাপলার চাল রোদে শুকিয়ে মহিলারা ভাজতো ঢ্যাপের খৈ। এরপর বর্ষা চলে গেলে শুকনো মৌসুমে ছেলেমেয়েরা ওই সব ডোবা নালা থেকে কুড়িয়ে আনতো শালুক। আগুনে পুড়ে শালুক খেতে দারুণ স্বাদ।

 

খুলনা জেলাতেও শাপলা ফুলের ডাটার বেশ চাহিদা রয়েছে। তরকারি হিসেবে সুস্বাদু এই শাপলা। বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন হাট বাজারে এই শাপলা সবজি হিসেবে ব্যাপক বিক্রি হয়। কিন্তু খুলনার ডুমুরিয়া থেকে বিলুপ্ত প্রায় এই শাপলা এখন স্মৃতির আসনে জায়গা নিয়েছে।  কারণ হিসেবে দেখা গেছে, আগের সব পুকুর, নদী, খাল ভরাট করে মানুষের নানা মুখী কর্মকান্ড ও কৃষিতে অতিমাত্রায় আগাছা নাশক ওষুধ প্রয়োগের কারণে শাপলার জন্মস্থলগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।

 

জেলার একাধিক এলাকা ঘুরে দু/একটি পুকুরে গুটি কয়েক শাপলা ফুটে থাকতে দেখা গেছে।  যার মধ্যে খর্এলাকায় একটি পুকুরে কয়কটি শাপলা ফুল রয়েছে। শাপলা মূলত বর্ষার শেষ থেকে শরৎকাল গ্রামগঞ্জের পুকুর, ডোবা, জলাশয় গুলোতে জন্মে থাকে। বর্তমানে নিচু জমিগুলোতে বিভিন্ন ধরণের ফসল চাষ হচ্ছে। ফলে শাপলা জন্মানো সুযোগ পাচ্ছে না। আর পুকুর জলাশয়গুলো পরিস্কার করে বাণিজ্যিক ভাবে মাছ চাষ হচ্ছে। সে কারণে পুকুরগুলোতেও শাপলা বংশ বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে না। তাই, আগের মত আর শাপলা দেখা যায় না।

 

এদিকে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলার অনেক এলাকাতেই বাণিজ্যিক ভাবে শাপলা চাষের সুযোগ রয়েছে। এতে করে বেকার সমস্যা সমাধান হতে পারে অনেকাংশেই। রাস্তার ধারের প্রতিত খালগুলো শাপলা উৎপাদনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এতে করে সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পাশাপাশি শাপলার সবজি হিসেবে চাহিদা মিটতে পারে।
এব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ ইনসান ইবনে আমিন বলেন ডুমুরিয়া উপজেলায় পতিত জমি ও গর্ত জমিতে মাছ চাষ করার কারণে জাতীয় ফুল শাপলা এখন বিলুপ্তির পথে।

 

খুলনা জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় মাছের ঘের হওয়ায়, অতিরিক্ত ফসল ও জমি পতিত না‌ থাকার ফলে শাপলা জন্মানো সুযোগ পাচ্ছে না।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com