সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসনের ঘোষিত আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম সংগ্রহ শুরুর আজ চতুর্থ দিনে আমে সয়লাব সাতক্ষীরার সুলতান পুর বড় বাজার। চলছে আমের ভরা মৌসুম। বাজারে এখন গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ ও গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আমের ব্যাপক সমারোহ দেখা যাচ্ছে। আম চাষীদের নিকট থেকে বিভিন্ন মাধ্যম হয়ে এসব আম সাতক্ষীরা থেকে রাজধানীসহ পৌঁছে যাচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, এ বছর আমের ফলন বাম্পার। ৫ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগসহ স্থানীয় জাতের আম ভাঙা শুরু হয়েছে। ১৫ মে বাজারে আসবে সাতক্ষীরার বিখ্যাত হিমসাগর। সুলতানপুর বাজারের আম ব্যবসায়ী কবির হোসেন জানান, এ বছর আমের ফলন প্রচুর। ফলে বাজারে প্রচুর আম আসছে। ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের আম ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে।
গোবিন্দভোগ আমের দাম পাইকারি বাজারে ১২০০ থেকে ১৬০০ টাকা প্রতি মণ, যা খুচরা বাজারে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গোপালভোগ আমও একই দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ধারণা, সামনের দিনগুলোতে বাজারে সরবরাহ আরও বাড়লে আমের দাম আরও কমতে পারে। এতে আমচাষীরা লোকসানের আশংকা করছেন।
তবে মাঠ পর্যায়ে ও অনলাইনে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অনলাইন ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি আম কুরিয়ার চার্জ ও আনুষঙ্গিক খরচসহ ১২৫ টাকায় বিক্রি করছেন। সে হিসেবে অনলাইনে প্রতি মণ আমের দাম পড়ছে ৫ হাজার টাকা। অপরদিকে, সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা হাটের মোড়,ব্রহ্মরাজপুর বাজারসহ বিভিন্ন হাটবাজারে খুচরা ব্যবসায়ীরা কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
সাতক্ষীরা জেলায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার মেট্রিকটন। কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, তারা সার্বক্ষনিক মনিটরিং করছেন যেন কোন আম ব্যবসায়ী আমে কেমিক্যাল দিয়ে বাজারজাত করতে না পারে। আমের সুনাম ধরে রাখতে বিষমুক্ত, নিরাপদ আম ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসন সার্বক্ষনিক কাজ করছে।
https://www.kaabait.com