• সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৬
সর্বশেষ :
পিতার দুর্ঘটনার ভুয়া খবর দিয়ে মেয়ের কাছ থেকে বিকাশে টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক শ্যামনগরে অবৈধ বালু উত্তোলন বাল্কহেডসহ আটক ১, জরিমানা ৫০ হাজার দেবহাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রচার অভিযান শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত সভাপতি মনির, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটন ফতুল্লায় মায়ামনি সেবা সংস্থার উদ্যোগে বার্ষিক মিলাদ ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিক ও কবি কাজী আনিসুল হক হীরার জন্মদিন উদযাপন দেবহাটায় ম্যান ফর ম্যান ফাউন্ডেশনের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ সাতক্ষীরায় রইচপুর ব্রিজের দুপাশে বেহাল দশা জনদুর্ভোগ কমাতে জামায়াত যুব বিভাগের স্বেচ্ছাশ্রম ও সংস্কার শ্যামনগরে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫২তম জন্মাষ্টমী উদযাপন ৪ সেপ্টেম্বর কবি ও সাংবাদিক কাজী আনিসুল হকের জন্মদিন

রামিসা ধ*র্ষ*ণ ও হ*ত্যা মা*মলায় সোহেল-স্বপ্না দম্পতির ফাঁ*সি

অনলাইন ডেস্ক / ১২৫ দেখেছেন:
পাবলিশ: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

 

রোববার পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

 

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।

 

বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে। অবশ্য এর আগে তিন কার্যদিবসে মাদক মামলা নিষ্পত্তির নজির রয়েছে। আর গত বছর মাগুরায় আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয় ১৪ কার্যদিবসে। ওই মামলায় আসামির সর্বোচ্চ সাজা প্রাণদণ্ডের রায় আসে।

 

গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে সেদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন। পরদিন সোহেল দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আর স্বপ্নাকেও পাঠানো হয় কারাগারে।

 

ধর্ষণ ও হত্যার নৃশংস ঘটনাটি সারাদেশে ক্ষোভের জন্ম দেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাসায় গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। আশ্বাস দেন, বিচার দ্রুত শেষ করার।

 

ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ২৪ মে দুপুরে সোহেল ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। ঢাকার মহানগর হাকিম আশরাফুল হক অভিযোগপত্রটি দেখে বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বদলির আদেশ দেন।

 

বিকালেই নথি পাঠানো হয় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে। সেদিনই বিচারক আসামিদের উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন বিচারক মাসরুর সালেকীন। তিনি অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন রাখেন ১ জুন। মামলার বিচারকাজ চালিয়ে নিতে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি বাতিল করা হয়।

 

আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে ১ জুন বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২ জুন দিন রাখা হয়। সেদিন ১৭ জনের মধ্যে ১৬ জন সাক্ষ্য দেন।

 

পরদিন ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানিতে বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও ১৬ জনের সাক্ষ্য পড়ে শোনান। বিচারক তাদের কাছে জানতে চান, তারা দোষী না নির্দোষ। উত্তরে স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে সোহেল রানা ক্ষমা চান। বলেন, “স্যার, আমি নির্দোষ। খালাস চাই।

 

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com