পিতার সড়ক দুর্ঘটনার ভুয়া খবর দিয়ে মেয়ের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ০১৮৮১-৭৮৩২৯৫ ও ০১৪০৫-৬০৬৫৯৩ ব্যবহারকারী এক প্রতারকের বিরুদ্ধে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরা বাস টার্মিনাল থেকে রাজ্জাকপার্ক এলাকা থেকে ঘটনার সূতপাত ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার বেলা ১২টার দিকে পাপিয়া নামে এক নারীকে মোবাইল ফোনে কল দেন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ওই ব্যক্তি নিজেকে পরিচিতজন হিসেবে দাবি করে বলেন, ‘তোমার নাম কি পাপিয়া? তোমার বাবার নাম কি আকবর আলী? তোমার আব্বা ভ্যান চালান? তিনি এক্সিডেন্ট করেছেন। রক্তক্ষরণ ও শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। সাতক্ষীরা মেডিকেলে ভর্তি করেছি। জরুরি ভিত্তিতে সাড়ে ৩ হাজার টাকা লাগবে।’
বাবার দুর্ঘটনার খবর শুনে পাপিয়া বিষয়টি যাচাই না করেই স্বামী আবু সাইদকে সঙ্গে নিয়ে পাটকেলঘাটার একটি বিকাশ এজেন্টের দোকান থেকে ওই ব্যক্তির দেওয়া নম্বরে ২৫ শ টাকা পাঠান। কিছুক্ষণ পর একই ব্যক্তি আবার ফোন করে আরও ৫০০ টাকা দাবি করলে সেটিও পাঠানো হয়।
টাকা পাঠানোর পর পাপিয়া ও তার স্বামী দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের ত্রিশমাইল এলাকায় পৌঁছালে তারা দেখতে পান, তার বাবা আকবর আলী সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ভ্যান চালিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছেন। এ দৃশ্য দেখে পাপিয়াসহ পরিবারের সদস্যরা হতভম্ব হয়ে যান। পরে তারা বুঝতে পারেন, প্রতারণার শিকার হয়েছেন। আকবর আলী সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানা এলাকার নগরঘাটা গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী আকবর আলী জানান, প্রতিদিনের মতো জীবিকার তাগিদে তিনি শহরে ভ্যান চালাচ্ছিলেন। খুলনা রোড বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে এক ব্যক্তি তার ভ্যানে ওঠেন এবং রাজ্জাকপার্ক এলাকায় যাওয়ার কথা বলেন। কথাবার্তার একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি নিজেকে ডিসি অফিসে চাকরি করেন বলে পরিচয় দেন। পরে তাকে একটি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে মোবাইল নম্বর চান।
তিনি বলেন, মোবাইল নম্বর মুখস্থ বলতে না পারায় ওই ব্যক্তি আমার কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে কী করেছে, তা আমি জানি না। তাকে নামিয়ে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মেয়ে-জামাই, ছেলে ও বউয়ের সঙ্গে দেখা হলে বিষয়টি জানতে পারি।
পরিবারের সদস্যদের ধারণা, ভ্যানযাত্রী ওই ব্যক্তি কৌশলে আকবর আলীর মোবাইল ফোন নিয়ে তার ছেলে-মেয়ের নাম ও নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে মোবাইলটি ফ্লাইট মোডে রেখে ভ্যান থেকে নেমে যান। এরপর মেয়ের নম্বরে ফোন করে বাবার দুর্ঘটনার মিথ্যা তথ্য দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন।
এ ঘটনায় প্রতারককে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সচেতন মহল বলছে, প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করার পাশাপাশি প্রতারকদের প্রতারণার কৌশলও দিন দিন আধুনিক করে তুলছে। তাই অপরিচিত কারও ফোনে পাওয়া দুর্ঘটনা, বিপদ বা জরুরি অর্থের প্রয়োজনের কথা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা না পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করা জরুরি।
https://www.kaabait.com