খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা থানা ভবনের পাশেই অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও অযত্নে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একসময়ের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আবাসনটি এখন লতাগুল্মে আচ্ছাদিত হয়ে কার্যত একটি ‘ভূতুড়ে বাড়িতে’ পরিণত হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ভবনটির ছাদ ও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে, খসে পড়ছে পলেস্তারা। চুরির হাত থেকেও রেহাই পাচ্ছে না দরজা-জানালা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় রাতের আঁধারে ভবনটি অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
ডাকবাংলোর চারপাশ জঙ্গল ও ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে। মূল ভবনের ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে ধুলোবালি ও ভাঙা আসবাবপত্রের স্তূপ। অনেক আগেই উধাও হয়েছে জানালার কাচ ও গ্রিল। ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ায় দেয়ালে জমেছে শ্যাওলা। অথচ উপজেলা সদরের কেন্দ্রস্থলে এবং থানার নিকটবর্তী হওয়ায় এটি সরকারি কর্মকর্তা, ভিআইপি অতিথি ও দর্শনার্থীদের জন্য একটি আদর্শ আবাসন কেন্দ্র হতে পারত।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু তালেব বলেন, “এই ডাকবাংলোর সঙ্গে ডুমুরিয়ার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। একসময় সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ভিআইপিরা এখানে অবস্থান করতেন। থানার পাশেই এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি সম্পদ এভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। ঝোপঝাড়ে ভরে যাওয়ায় এখন দিনের বেলাতেও পাশ দিয়ে হাঁটতে ভয় লাগে। আমরা চাই দ্রুত এটি ভেঙে আধুনিক মানের একটি নতুন রেস্ট হাউস নির্মাণ করা হোক।”
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। ডাকবাংলোটি জেলা পরিষদের মালিকানাধীন সম্পত্তি। ভবনটি বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। জেলা পরিষদের প্রকৌশল বিভাগ ভবনটিকে ‘কনডেমড’ ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিলে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”
খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন,
“ডুমুরিয়া ডাকবাংলোর জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি আমাদের জানা আছে। জেলার কয়েকটি পুরোনো ডাকবাংলো সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জন্য একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ডুমুরিয়া ডাকবাংলোটি উপজেলা সদর ও থানার পাশে হওয়ায় এর গুরুত্ব অনেক বেশি। খুব শিগগিরই একজন প্রকৌশলী পাঠিয়ে ভবনটির কাঠামোগত অবস্থা পরীক্ষা করা হবে। সংস্কারযোগ্য হলে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে। আর যদি ভবনটি সংস্কারের অযোগ্য হয়, তাহলে পুরোনো ভবন নিলামে বিক্রি করে সেখানে আধুনিক ও বহুতল জেলা পরিষদ ডাকবাংলো নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।”
ডুমুরিয়ার সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে পরিত্যক্ত এই স্থাপনাটির পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা, প্রশাসনিক কার্যক্রমের সুবিধা বৃদ্ধি এবং এলাকার সম্ভাব্য পর্যটন বিকাশের স্বার্থে এখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি ডাকবাংলো বা রেস্ট হাউস নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।
https://www.kaabait.com