সুন্দরবনে পরিচালিত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধানসহ দুই ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। এ সময় বন্দুকযুদ্ধে বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বনজীবী, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার লক্ষ্যে ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় গত ২৫ জুন বিকেল থেকে টানা দুই দিন খুলনার কয়রা উপজেলার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনে অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে দস্যুদের বহনকারী দুটি নৌকাকে থামার সংকেত দিলে তারা কোস্ট গার্ডকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে দস্যুদের একটি নৌকায় আগুন লাগে এবং অপরটি ডুবে যায়।
বন্দুকযুদ্ধ শেষে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলাম (৫০) ও শওকত সরদারকে (৫৫) আটক করা হয়। পরে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক শওকতকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পরে পালিয়ে যাওয়া দস্যুদের ধরতে যৌথ অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার সামনে থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) নামে আরও এক ডাকাতকে আটক করা হয়। তাকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযানে আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকা থেকে ৬টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, একটি মোবাইল ফোন ও একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়।
আটক ডাকাতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
https://www.kaabait.com