সুন্দরবনে পরিচালিত পৃথক দুটি অভিযানে কুখ্যাত দয়াল বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। একই সঙ্গে দুর্ধর্ষ বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা দুই জেলেকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় সুন্দরবন এলাকায় সক্রিয় বনদস্যুদের নির্মূলে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে পৃথক দুটি সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রথম ঘটনায়, গত ১৫ এপ্রিল মোংলা থানার জয়মনিঘোল এলাকার শুয়োরমারা খাল সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে অপহৃত হন দুই জেলে।
অপহরণের পর তাদের জিম্মি রেখে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে নির্যাতন চালানো হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জিম্মিদের অবস্থান শনাক্ত করে ১৬ এপ্রিল বিকেল ৪টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার একটি দল মুর্তি খাল সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় একটি মাছ ধরার নৌকাসহ দুই জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কুখ্যাত দয়াল বাহিনীর সদস্যরা শ্যামনগর থানার হোগলডরা খাল এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রেক্ষিতে ১৭ এপ্রিল সকাল ৬টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কৈখালীর একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এসময় ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাদের কাছ থেকে দুটি একনলা বন্দুক ও ৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয় এবং দয়াল বাহিনীর সক্রিয় সদস্য তরিকুল ইসলাম (৩৫)কে আটক করা হয়।
আটক তরিকুল খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দয়াল বাহিনীর সঙ্গে জড়িত থেকে সুন্দরবন এলাকায় ডাকাতি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
https://www.kaabait.com